1. akhi@janatarjagoron.com : আখি আক্তার : আখি আক্তার
  2. foreign@janatarjagoron.com : আন্তর্জাতিক ডেস্ক : আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  3. atau@janatarjagoron.com : Mohammed Ataullah : Mohammed Ataullah
  4. mosharaf.bbadcc@gmail.com : বিনোদন ডেস্ক : বিনোদন ডেস্ক
  5. jonotarjagoron@gmail.com : Editor :
  6. labony@janatarjagoron.com : ক্যাম্পাস প্রতিনিধি : ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
  7. life@janatarjagorn.com : লাইফস্টাইল ডেস্ক : লাইফস্টাইল ডেস্ক
  8. onlinedesk2@janatarjagoron.com : অনলাইন ডেস্ক : অনলাইন ডেস্ক
  9. sohag@janatarjagoron.com : Khan Saiful Sohag : Khan Saiful Sohag
  10. info2@janatarjagoron.com : উপজেলা প্রতিনিধি : উপজেলা প্রতিনিধি
  11. mosharafrobindev@gmail.com : জেলা প্রতিনিধি : জেলা প্রতিনিধি
এলডিসি টেকসই সংস্কারে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত জাতিসংঘ  - Janatar Jagoron
শিরোনাম

এলডিসি টেকসই সংস্কারে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত জাতিসংঘ 

  • সর্বশেষ আপডেট: শুক্রবার, ১৬ মে, ২০২৫
  • ২০৭ বার পঠিত
জাতিসংঘ 

উত্তরণে প্রস্তুত বাংলাদেশ, পাশে জাতিসংঘের অটল হাত!
 অনলাইন ডেস্ক

জাতিসংঘ বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণ প্রক্রিয়ায় জোরালো সহায়তা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে। সামাজিক ও অর্থনৈতিক কাঠামোতে টেকসই সংস্কার আনতে এবং উত্তরণ-পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দেশটির পাশে থাকার ঘোষণা দিয়েছে জাতিসংঘের বাংলাদেশ আবাসিক সমন্বয়কারী গোয়েন লুইস।

বৃহস্পতিবার (১৫ মে) অনুষ্ঠিত জাতিসংঘ কান্ট্রি টিম ও বাংলাদেশের সরকারের যৌথ স্টিয়ারিং কমিটির (জেএসসি) দ্বিবার্ষিক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এ প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।

বৈঠকে যুগ্ম সভাপতিত্ব করেন অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকী এবং গোয়েন লুইস। বৈঠকে সরকার ও জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তারা অংশ নেন।

গোয়েন লুইস বলেন, ‘বাংলাদেশের এলডিসি তালিকা থেকে উত্তরণের পথে টেকসই সংস্কার, জলবায়ু সহনশীলতা, অর্থনীতির রূপান্তর, জেন্ডার সমতা এবং কাউকে পেছনে না ফেলে উন্নয়ন নিশ্চিত করতে জাতিসংঘ প্রস্তুত রয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘২০২৪ সালটি বাংলাদেশের জন্য নানা সংকটে ঘেরা ছিল, তবে দেশের জনগণ যে সহনশীলতা ও আত্মমর্যাদাবোধ দেখিয়েছে, তা অনন্য।’

লুইস জাতিসংঘ ও বাংলাদেশের অংশীদারিত্বকে “যৌথ মূল্যবোধ ও অভিন্ন আকাঙ্ক্ষায় গড়া এক অনন্য বন্ধন” বলে অভিহিত করেন।

বৈঠকে জাতিসংঘ টেকসই উন্নয়ন সহযোগিতা কাঠামোর (ইউএনএসডিসিএফ) ২০২৪ সালের রেজাল্ট রিপোর্ট প্রকাশ করা হয় এবং ২০২৫ সালের কৌশলগত অগ্রাধিকারের অনুমোদন দেওয়া হয়।

২০২৪ সালে জাতিসংঘ ২১ কোটি ৫০ লাখ ডলারের উন্নয়ন সহায়তা দিয়েছে বাংলাদেশকে। এর আওতায় স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের রোডম্যাপ, ৪ হাজারের বেশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি, ১১৬টি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়তা এবং ১১ হাজারের বেশি তরুণকে ডিজিটাল প্রশিক্ষণ প্রদান অন্তর্ভুক্ত।

এই সহায়তায় ৪ কোটিরও বেশি মানুষ পেয়েছে সামাজিক সুরক্ষা সেবা। শুধু শিশু সুরক্ষা কর্মসূচিতে উপকৃত হয়েছে ৫ লাখ ৮০ হাজার শিশু। একইসঙ্গে ৫৬ লাখ কিশোরী পেয়েছে জরায়ুমুখ ক্যান্সার প্রতিরোধী এইচপিভি টিকা, যার আওতায় ১০-১৪ বছর বয়সী অন্তত ৯৩% মেয়েকে কভার করা সম্ভব হয়েছে।

জলবায়ু দুর্যোগের বছরে জাতিসংঘ ৪ কোটি ৪০ লাখ ডলারের সহায়তা সমন্বয় করেছে। প্রায় ১৭ লাখ ২০ হাজার দুর্যোগকবলিত মানুষ পেয়েছে মানবিক সহায়তা এবং ২০ লাখ মানুষের মধ্যে জলবায়ু সচেতনতা বৃদ্ধি করা হয়েছে।

শাসন ব্যবস্থার উন্নয়নে জাতিসংঘ গ্রামীণ আদালত সক্রিয় করতে সহায়তা করেছে, যা দেশের ৬৬% গ্রামে কার্যকর হয়েছে এবং প্রায় ৬ কোটি ১০ লাখ মানুষ এই সুবিধা পেয়েছে। একই সঙ্গে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ আইন ও গার্হস্থ্য সহিংসতা আইন সংশোধনে সক্রিয় প্রচারণা চালিয়েছে সংস্থাটি।

অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা এক বছর বাড়ানোয় ইউএনএসডিসিএফ (২০২২-২০২৬) এর সময়সীমাও আনুষ্ঠানিকভাবে এক বছর বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয় জেএসসি বৈঠকে, যাতে উন্নয়ন প্রক্রিয়ার সঙ্গে সঙ্গতি বজায় রাখা যায়।

বৈঠক শেষে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে কেন্দ্র করে একটি বিশেষ সেশন অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে জাতিসংঘের যুব সম্পৃক্ততা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়।

তরুণদের কণ্ঠস্বর তুলে ধরার পাশাপাশি আন্তঃপ্রজন্ম সমতা জাতীয় নীতিতে অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে বিশেষ আলোচনা হয়। ইআরডি সচিব শাহরিয়ার কাদের জাতিসংঘের অব্যাহত অংশীদারত্বের প্রশংসা করে বলেন, ‘এই সম্প্রসারিত কাঠামো পরিবর্তিত বাস্তবতায় আমাদের উন্নয়নকে আরও গতিশীল করবে।’

তিনি ‘বাংলাদেশ ক্লাইমেট ডেভেলপমেন্ট পার্টনারশিপ’ প্ল্যাটফর্মের অগ্রগতির প্রশংসা করে জাতিসংঘের সমর্থন অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।

তিন শূন্য নীতির (শূন্য দারিদ্র্য, শূন্য নিরক্ষরতা, শূন্য কার্বন নির্গমন) লক্ষ্যে পৌঁছাতে যুব কর্মসংস্থান, সামাজিক উদ্যোগ এবং প্রভাবমূলক অর্থায়নে বিনিয়োগের ওপর জোর দেন শাহরিয়ার কাদের।

তিনি বলেন, ‘পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা, স্থানীয় শাসন এবং আসন্ন নির্বাচন ও সংস্কার পর্বে জাতিসংঘের সহায়তা অত্যন্ত জরুরি।’

সভায় কয়েকটি তাৎপর্যপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়—এর মধ্যে রয়েছে চলতি বছরের শেষ নাগাদ ইউএনএসডিসিএফের চূড়ান্ত মূল্যায়ন শুরু এবং এসডিজি বাস্তবায়ন ও এলডিসি উত্তরণে গতির জন্য নতুন করে প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করা।

জাতিসংঘের ঢাকা কার্যালয় জানিয়েছে, জেএসসির পরবর্তী বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে ২০২৫ সালের শেষ দিকে।

পোস্টটি শেয়ার করুন

এই বিভাগে আরও খবর..